ইউরোপে পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ডাটা সেন্টারে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা প্রযুক্তি জায়ান্টদের

ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর আয়ুষ্কাল এখন ফুরানোর পথে।

ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর আয়ুষ্কাল এখন ফুরানোর পথে। বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধাকে কাজে লাগাতে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে এখন ডাটা সেন্টারে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করছে মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো। এআইয়ের উত্থানে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ফ্রান্সের এনজি, জার্মানির আরডব্লিউই ও ইতালির ইনেলের মতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সামনে বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন নিজেদের পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে প্রযুক্তি কোম্পানির ডাটা সেন্টারে রূপ দেয়ার মাধ্যমে বিদ্যুতের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে লাভবান হতে চাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে এসব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রচুর অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। আবার এগুলোকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রচুর অর্থ ও ঝুঁকি প্রশমনেরও প্রয়োজন পড়বে। এদিক থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ডাটা সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা তাদের এ লক্ষ্য পূরণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলো।

আবার বৈশ্বিক এআই শিল্পে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কুলিং ফ্যাসিলিটি (শীতলায়ন সুবিধা) নিশ্চিত করা। বড় প্রাকৃতিক জলাধারের পাশে গড়ে তোলা পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এসব সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের এনার্জি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ববি হলিস জানান, এ থেকে পানি অবকাঠামো ও হিট রিকভারিসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই পাওয়া যাবে।

অ্যামাজনের এনার্জি ডিরেক্টর লিন্ডসে ম্যাককোয়াড জানান, ডাটা সেন্টারগুলোকে পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা লিজ দিতে পারে অথবা নিজেরাই ডাটা সেন্টার বানিয়ে সেগুলোকে পরিচালনার মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে পারে।’

এ পরিকল্পনাকে নিজেদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। জার্মানিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরডব্লিউইর গ্লোবাল পার্টনারশিপ অ্যান্ড ট্র্যানজেকশনস বিভাগের প্রধান সাইমন স্ট্যানটন বলেন, ‘এসব চুক্তি সই হলে তা শুধু অব্যবহৃত সম্পদ বিক্রির চুক্তি হবে না, বরং এ থেকে স্থিতিশীল ও উচ্চ মার্জিনে মুনাফার সুযোগও তৈরি হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের চেয়েও বেশি কিছু হবে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি প্রশমন ও অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য সহায়ক এক ব্যবসায়িক সম্পর্কও এর মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে।’

জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইইউ অঞ্চলের অধিকাংশ ও যুক্তরাজ্যের ১৫৩টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০৩৮ সালের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। এনজিও প্রতিষ্ঠান বিয়ন্ড ফসিল ফুয়েলসের হিসাবে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই দশকে মোট ১৯০টি এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় ডাটা সেন্টারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষেত্র গড়ে তোলার মাধ্যমেও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে কোম্পানিগুলোর।

বর্তমানে তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় প্রিমিয়াম (গ্রিন প্রিমিয়াম) দিচ্ছে ২০ ইউরো পর্যন্ত। একেকটি ডাটা সেন্টারে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকশ মেগাওয়াট থেকে শুরু করে ১ গিগাওয়াট বা এরও বেশি হতে পারে। বাজারদরের অতিরিক্ত হিসেবে পরিশোধকৃত আ গ্রিন প্রিমিয়ামে বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বিপুল পরিমাণে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও